নগ্ন স্নানের দৃশ্য দেখার নেশা

সময় অসময় রাহাতের মন খারাপ হয়। কারণ ছাড়াই। হঠাৎ হঠাৎ মন খারাপের কারণ সে বহুদিনেও আবিষ্কার করতে পারেনি। আজ তার মন ভালো নেই। সকাল থেকে গম্ভীর। কেন জানে না। ছাড়তে পারছে না বিছানা। জড়োসড়ো হয়ে শুয়ে আছে। কল্পনার রাজ্যে ডুব দিয়ে চলে গেল সেইসব দিনগুলোয়। সেই স্মৃতি এলোমেলো করে দিচ্ছে তার মন। আবার হারাতে চায়। মাঝে মাঝেই উদাসীনভাবে হারিয়ে যায় সে জীবনের ফেলে আসা গলি পথে। ওখানে আলো নেই। তবে অন্ধকারটা খুব মোটা না। চলতে পারে। ফেলতে পারে পা দেখে পা।

কখনো আবার বেখেয়ালি দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে ছাদে উঠে পিলারের সঙ্গে পিঠ ঠেকিয়ে। তখনো ওই গলিপথ এসে সামনে দাঁড়ায়। এসব আজকাল মনে করতে চায় না সে। তবু মনে পড়ে। কেন? মন কেন হারায় জানে না সে। মনে করে কী হবে সেইসব দিনের কথা? খুব যে মূল্যবান তাও না। কিছু পাগলামি আছে। কত বছর আগে হারিয়েছে তাও ভুলতে বসেছে। যাবে না সে খুঁজতে। ঝাপসা হয়ে আসছে স্মৃতিটুকু। তারপর হেঁটেছে  সে হাজারো পথ। কাঁচা মাটির পথ ভেঙে হাঁটতে হাঁটতে একদিন উঠে এসেছিল পাকা সড়কে। পিচ ঢালা কালো পথ। বিরাট একটা নিঃশ্বাস নিয়েছিল। পথটা নিঃসঙ্গ। কেউ নেই তার পাশে। সে একা। দাঁড়িয়ে আছে। পেছন ফিরে তাকায়নি। পেছনেও একটা পথ আছে। এই পথের সঙ্গে হয়তো মিশে ছুটে গেছে অন্য কোনো পথের খোঁজে। হাঁটতে শুরু করল কিছুক্ষণ পরে। হাঁটছে। হাঁটছে। কোথায় যাচ্ছে জানে না সে। তবে আজ পথ হারানি। সেই পথিক সে, যে পথ হারিয়েছে বহুবার। পথ পাল্টেছে কিন্তু পথিক পাল্টায়নি। গন্তব্যহীন হেঁটে চলছে। একটু একটু করে ভেঙে যাচ্ছে। উদ্দেশহীন হাঁটা। নেই গন্তব্য। জানে না সে যাবে কোথায়? তবু হাঁটছে। হাঁটতে হাঁটতে নিখাদ গ্রাম্য জনপদ ছেড়ে চলে এসেছে শহরে। ওই পথটাই তাকে শহর চিনিয়েছে। সে আর ফিরতে চায় না ফেলে আসা পথে। হাঁটবে। তবে নতুন পথে। পথ না পেলে পথ তৈরি করবে। উঠল ওয়ারীতে। লারমিনি স্ট্রিটের তিন তলা একটা বাড়ির দোতলার সিঙ্গেল কক্ষে। যার সঙ্গে বাথ রুম নেই। রান্নাঘরও না। জানালা আছে দুইটা। বাথরুম নিচের সিঁড়ি ঘরে। এটা বড্ড যন্ত্রণার। সিগারেট টানতে হয় তিন তলার ছাদে। এই নিচ ওপর করতেই দিনের বড় একটা সময় নষ্ট করতে হয়। খেতে যেতে হয় হোটেলে। বেশি সময় আজকাল ছাদেই থাকে রাহাত। নামা ওঠা ভালো লাগে না। ওখানে একটা জগত গড়ে নিয়েছে নিজের মতো। সিগারেট টানে। আকাশ দেখে। মাঝে মাঝে আকাশেরও মন খারাপ হয়। সেই মন খারাপের কারণও সে জানে না। জানতেও চায় না। কী হবে জেনে। কেউ তার মনের খবর রাখে? রাখে না। কাক এসে পাশে বসে। ওদের সঙ্গেও কথা হয় না। পাশের বাসার গোসলখানায় চোখ যায়। ওখান থেকে চোখ ফিরিয়ে আনতে পারে না। কষের মতো আটকে থাকে। হরিপদরবাবুর শেষের ঘরে মেয়ে শশি। বয়স সতের। গোসলখানায় ঢুকে গান গায়। চেঁচিয়ে চেঁচিয়ে বাড়ি মাত করে। কি সব গান। জলের শব্দে কথা ভেসে যায়। চ্যাচানোটুকুই শোনা যায়। শশির কণ্ঠে ওটা পায় ভিন্ন সুর। সে বেশ মধুর লাগে রাহাতের কণ্ঠে। কেন লাগে? বিরক্ত হওয়ার কথা। শশির কণ্ঠ আছে তাই মধুর লাগে। অন্য কেউ হলে পিটিয়ে এলাকা ছাড়া করত। 

এই গান শুনে শশিকে আবিষ্কার করেছিল চৈত্রের গা পোড়ানো এক দুপুরে। ছাদে দাঁড়িয়ে টানছিল সিগারেট। কবে এটা খাওয়া শিখছে তা মনে পড়ছে না। তবে এটা তার টানতে হবে। টেনেই যাচ্ছে। সুফল দেখছে না। সেই টানের সময় কানে এসে লাগছিল ওই চেঁচানোর শব্দ। শব্দের পথ খুঁজতে গিয়ে দেখল বাথরুম। শাওয়ার ছেড়ে দাঁড়িয়ে আছে শশি। সেই ভেজা মুখ দেখে মনে করেছিল পুরো শরীরটা নগ্ন। চুলগুলো লেপটে আছে মুখে, পিঠে। হঠাৎ একটা নগ্ন নারীর ছবি এঁকে ফেলল তার মন। ঘোর লাগিয়ে দিল। এরপর ওখান থেকে চোখ তুলে আনতে পারেনি সে। চেষ্টাও করেনি। তারপর রুটিন কাজ হয়ে গেল। দুপুর নামলেই ছাদে ওঠে। সিগারেট টানে। চোখ পাশের বিল্ডিংয়ের গোসলখানায় সেটে দেয়। কখন শশি ঢুকবে! শাওয়ার ছাড়বে। চেঁচিয়ে গান করবে। তার মন একটা নগ্ন ছবির দৃশ্য আঁকবে। 

শশির নাম সে জানত না। বাবার নামও না। শশির কথা প্রথম শুনেছিল সুমনের মুখে। সুমন বাড়িঅলার ছেলে। লেখাপড়া শেষ করেনি। মাঝ পথে বন্ধ হয়েছে। কী রোগ হয়েছিল জানে না। কাঁপুনি দিতো। বেহুশ হয়ে পড়ত। কতবার নাকি মরার খুব কাছে চলে গিয়েছিল। এখনো শরীরটা লিকলিকে। ছাদে দাঁড়িয়ে সুমন একদিন বলেছিল শশিদের আদ্যপান্ত। ওর বাবা হরিপদ। স্বর্ণের ব্যবসা আছে। প্রথম বউ মারা গেছে। সে মৃত্যু নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। হরিপদবাবু নিজেই নাকি মেরেছেন। মুখে মুখে ছড়িয়েও ছিল। তার ছেলেরা আজও বিশ্বাস করে যাচ্ছে সেকথা। তারপর শশির মাকে বিয়ে করেছে। শশির ঠকুরমা কাজ করত এই বাসায়। তখন শশির মাও আসত। বাড়ন্ত শরীর ছিল। ওটার লোভে পড়েছিল হরিপদবাবুর। সম্পর্কও গড়ে তুলেছিল। কিছুদিন পরেই মারা গেলেন তার স্ত্রী। তখন প্রশ্ন ওঠেনি। বিয়ের পরেই যত প্রশ্ন। শশির মাসি এসে উঠল এখানে। হরিপদবাবুর আগের সংসারের মেজ ছেলের সঙ্গে প্রেম হয়ে গেল তার। বাড়ি ছেড়ে পালাল একদিন। ফিরেনি আর। বাপ ছেলে ভায়রা। হরিপদ এখন পারে না। মাঝে মাঝে বউ বাইরে যায়। এসব বলে ফিক করে হেসে উঠল সুমন। 

সেদিন রাহাত শুনেছিল শশির কথা। শশির যে শৈল্পিক বর্ণনা দিয়েছিল সুমন তখনই প্রেম এসেছিল তার মনে। মনে হচ্ছিল আকাশ থেকে শশি নেমেছে ধুলোর পৃথিবীতে। কিন্তু তার গায়ে ধুলো লাগেনি। সুমনও বারবার ছাদে ওঠে। শিশ বাজায়। ভাঙা কণ্ঠে দু’চার লাইন গান ধরে। সবটাই শশির জন্য। গান শুনে কাক উড়ে গেলেও শশি ফিরে তাকায় না। তা বুঝতে পারছিল রাহাত। এরপর অনেকদিন শশিকে দেখেছে সে। সিগারেট কিনতে গিয়ে রাস্তায় মুখে। তখনো শশিকে নগ্ন মনে হয়েছিল তার কাছে। চোখের সামনে ভেসে উঠেছিল ওই একটা দৃশ্য। শাওয়ার থেকে পানি পড়ছে। তার নিচে একটা শরীর। সেটা উন্মুক্ত। তারপর কখনো শশিকে কাপড় পরা ভাবতে পারেনি রাহাত। কেনই যেন সেদিনের পর থেকে শশির গায়ে কাপড় দেখে না সে। ওর মাকে দেখে পাশে। বাইরে যায়। তখন মনে হয় সুমনের কথা। হরিপদবাবু পারে না। তাই শশির মা বাইরে যায়। অন্য কাজে গেলেও রাহাতের মনে ওটাই এসে দাঁড়ায়। 

২.   
আজকাল রাহাত খুব একটা বাইরে বের হয় না। নিচেও পারতপক্ষে নামে না। প্রায়শই কলেজ বন্ধ করে। টিউশনি নিয়েছিল একটা। ঠিক করে দিয়েছিল রায়হান। রায়হানের সঙ্গে পরিচয় কলেজে। তার কিছুদিন পরেই এই বাসায় ওঠল। দুজন থাকে। গত মাসে টিউশনিটা ছেড়ে দিয়েছে। সময় মতো যেতে পারে না। ঘুমিয়ে থাকে। যেতেও ইচ্ছে করে না। শুধু ছাদে যেতে ইচ্ছে করে। নামতে ইচ্ছে করে না ওখান থেকে। একটা অদৃশ্য শক্তি তাকে আটকে রাখে।  

রায়হান রাগ করল। সারাদিন রুমেই থাকিস। টিউশনিটা ছেড়ে দিলি। বাবার টাকায় চলতে পারবি? কত রকম খরচ। বলিস বাবা টাকা দেয় না। কলেজেও যাস না। কোনো উত্তর করেনি রাহাত। তার চোখে ছিল শশির নগ্ন শরীর। কলেজে গেলে দুপুরে ছাদে ওঠতে পারে না। শশির নগ্ন শরীর দেখতে পারে না। চেঁচানো গান শুনতে পারে না। ওটা তার নেশা। তার সঙ্গে যোগ হয়েছে আর এক নেশা। এক সন্ধ্যায় সুমন এল রুমে। হেসে কুটি কুটি হয়ে যাচ্ছে। কথা বলতে পারছে না। কণ্ঠ নামিয়ে বলল, আজ একটা জিনিস দেখাব। হয়তো কোনোদিন দেখিসনি। রাহাত ভাবছিল শশির নগ্ন শরীর দেখাবে। যা গরম পড়েছে রাতেও গোসল করতে পারে। ও দৃশ্য সে প্রতিদিন দেখে। মাতাল হয়। নেশা ধরিয়েছে তার মনে। তাই খুব আগ্রহ দেখাল না। তবু সে যাবে। সুমনও শশির নগ্ন শরীর মাপে? সেটা দেখতে হবে। সন্ধ্যায় সুমনের সঙ্গে ছাদে গেল। সিগারেট টানল। বারবার জানতে চাইল, কী দেখাবি?

সুমনের মুখে লম্বা হাসি। অস্থির হচ্ছিস কেন? ঘটনা না ঘটলে দেখাব কী! আজ বৃহস্পতিবার। অবশ্যই ঘটবে। অপেক্ষা করতে হবে। 

রাহাত অপেক্ষা করছে। রাত বাড়ছে। নামছে না ছাদ থেকে। সেই রাতে পাশের বাসার জানালা থেকে সুমন দেখাল রমণের দৃশ্য। রাহাত এই দৃশ্য আগে দেখেনি। মাথায় ক্লিক ক্লিক করছে। শরীরের ওপর দিয়ে খেলে গেল বিদ্যুতের চমক। তখন মনে হলো শশির কথা। এভাবে কখনো ভাবেনি। শুধু দেখত। দৃষ্টিতে এখন লোভ এসেছে। শশিকে চায় সে। বেপরোয়া হয়ে উঠল মন। কিন্তু যেতে পারে না শশির কাছে। এখন মনে হচ্ছে শশি থাকে আকাশে। অনেক দূরে। সে নামবে এই ধুলোর পৃথিবীতে? দেখাই যায়। ধরা যায় না। তার শশি থাকে হাত দুই দূরে। একটা দেয়ালের অপর পাশে। তবু মনে হয় অনেক দূর। শশিকে আপন করে পাবে সে? সব বোধ হারিয়ে গেল। মাতাল হয়ে উঠল রক্ত। কাঁপনি উঠছে শরীরে। ওই দৃশ্য তারপর বহুবার দেখেছে সে। এক রাতে এই দৃশ্য দেখতে ছিল রাহাত আর সুমন। হঠাৎ একজোড়া চোখ এসে পড়ল তাদের মুখে। সে চোখ ছিল ওই নারীর। যে রমণে ব্যস্ত। উত্তেজনার কড়াইতে ভাজা হচ্ছে তার শরীর। কথা ছিল না মুখে। তবু সুমন শুয়ে পড়েছিল ছাদে। রাহাতও। বৃষ্টি নেমে এসেছিল ঝমঝম করে। ধুয়ে দিচ্ছিল তাদের শরীর। কিন্তু ঠান্ডা করতে পারেনি। শীতল হয়নি উষ্ণ শরীর। নামাতে পারেনি দৃষ্টি। নারীও উঠে এসে জানালা বন্ধ করেনি। টেনে দেয়নি পর্দা। তারা যেন আরও বেশি মিলনের উন্মাদনায় হারিয়ে গেল অন্য এক জগতে।     

এই দুই দৃশ্য রাহাতকে আটকে ফেলেছিল। মুক্ত হতে পারেনি সে। চেষ্টাও করেনি। কামের যাতনা তৈরি করেছিল তার উঠতি শরীরে। দ্বিতীয় দৃশ্য দেখার পরে সে খুব করে শশিকে পেতে চাইল। তার মনে মিলনের ইচ্ছে জন্মাল। রমণের মাতাল স্বাদ পেতে চায় সে। কিন্তু শশির নাগাল পায় না। সুমনকেও বলতে পারে না। সুমন নিষেধ করেছে। শশির দিকে চোখ দিস না। তোরা আজ আছিস কাল নাই। হাওয়া হয়ে যাবি। ঝামেলা পোহাতে হবে আমাদের। 

সুমনের কথায় থেমে যায়নি রাহাত। চেষ্টা সে করেছিল। কিন্তু কোনোভাবেই নাগাল পায়নি শশির। তার আবেদন ওই পর্যন্ত গিয়ে পৌছেনি। এতটা কাছে থেকেও হাজার মাইল দূরে তার অবস্থান। তবু চাতকের মতো তাকিয়ে থাকে। যদি দৃষ্টির ফ্রেমে বেধে নিবেদন করতে পারে প্রেম।

৩.
বসন্তের মধ্যরাতে অকালবর্ষা পাশের বাড়ির টিনের চালে নৃত্য করছে। যার নীরব দর্শক রাহাত। কক্ষে সে একা। ঘুম ভেঙেছে আরও আগে। তখন মনে হচ্ছে ওই বাসায় রমণ চলছে। এই রাতে শশি গোসল করছে। সে বসে আছে চৌকির উপর। জানালা খোলা। বসন্তের পাগলা বাতাস ফুরফুর করে অনুমতি ছাড়াই ঢুকে পড়ছিল। এখন বৃষ্টির ছাট আসছে। বড্ড বেপরোয়া বৃষ্টি। নিয়ন্ত্রণ মানে না। তবু বন্ধ করার তাড়া নেই। সে তাকিয়ে আছে জানালা দিয়ে আকাশের মুখে। কেন এই মধ্যরাতে কাঁদছে আকাশ? দুঃখের জলে সাঁতার কাটছে পৃথিবী। সে এক পথ হারা পথিক। পথের খোঁজে কখনো পথে নামেনি। কতকাল হেঁটেছে পথে। কিন্তু পথ পায়নি। উঠে দাঁড়াল। জানালার শিক ধরে দৃষ্টি বিছিয়ে দিল নিচে শুয়ে থাকা পথের দিকে। তখন আবার মনে পড়ল সেইসব দিনের কথা। যা ফেলে এসেছে শৈশবে। যার কোনো মূল্য নেই। তবু আজ বোহেমিয়ান মনে এতবার হানা দিচ্ছে কেন? জানে না সে। জানতেও ইচ্ছে করে না। বৃষ্টির রিনিঝিনি শব্দ কানে আসছে না। মন ভুলিয়েছে। পথ ভুলিয়েছে।

এই মধ্যরাতে একটা পাখি ডাকছে। বৃষ্টিতেও ঘরে ফেরেনি। ফেরার তাড়া নেই ওর। কেউ চিন্তাও করেনি ওর জন্য। থামিয়ে দেয়নি ডাক। ডেকেই যাচ্ছে। স্বরে ক্লান্তি নামেনি। ছাদের চিলেকোঠার পাশে কত কাক আসে। বসে থাকে। কা কা করে ডাকে। ওদের খাবার দেয় না সে। কথাও হয় না কখনো। দেখা হয়। চোখে চোখ পড়ে। সেটা খুব কম। তার চোখ বেশি সময় থাকে পাশের বাসার জানালায়। গোসল খানায়। কেননা তার দৃষ্টিতে প্রেমের থেকে কামের তীব্রতা থাকে বেশি। তাই অন্যকিছু দেখতে পায় না। সব ভুলে যায়। শশি পাশের বাসায় থাকলেও তার পাশে না। কখনো কথা বলার সুযোগ হয় না। চোরা দৃষ্টি ঝুলিয়ে রাখে জানালার গ্রিলে। যদি দেখতে পারে চাঁদের লাবণ্য মাখা ওই মুখ। ওটাই আনন্দ। মনে হয় ছাদে ওঠা বৃথা যায়নি। কাকগুলো থাকে নিজেদের মতো। ইচ্ছে মতো ডাকে। আবার উড়ে যায়। আবার আসে। চুপচাপ বসে থাকে সে। একটা মুখ দেখার জন্য। একটা নগ্ন শরীরের ছবি আঁকার জন্য। সে মুখটা দেখে। সময়ে অসময়ে। তবু কেন যেন মায়া জন্মে না। ভালোবাসা হয় না। একটা আকর্ষণ সৃষ্টি হয়। সেটা কামের। নেশার। নেশা ওই শরীর দেখার। মায়া হয় কাকদের জন্য। তাড়িয়ে দেয় না। ওরাও তাকে ভয় পায় না। কাছে গেলে উড়ে যায় না। বন্ধু হয়ে উঠেছে হয়তো ওরা। কখনো শত্রু হবে না। এখানে অনেকে আসে। আড্ডা দেয়। তাদের সঙ্গে কথা হয়। এই শহরে অসংখ্য মানুষ থাকে। পথে বের হলে মনে হয় জনসভা ভেঙেছে। অনেকের সঙ্গে কথাও বলে সে। হাসে। তবু বন্ধুত্ব হয় না। বিশ্বাস জন্মে না। কারণ ওরা মানুষ। বহুদিনের অভিজ্ঞতায় বুঝতে পারল মানুষ তার বন্ধু হবে না। তাহলে কেন মানুষের পাশে থাকবে সে? কেন দিনের পর দিন ওই নগ্ন শরীর দেখে নিজের ঘুমন্ত কামকে জাগিয়ে তুলবে? কেন অন্যের রমণের দৃশ্য দেখার নেশায় হারিয়ে যাবে। এদের ছেড়ে চলে যাবে সে। চলে যাবে এই শহর ছেড়ে। পৃথিবীর নগ্ন স্নান দেখতে দেখতে এসব ভাবছিল রাহাত। এবার সে চলে যাবে। ওই নগ্ন স্নান দেখার নেশা তাকে আটকে রাখতে পারবে না।

৪.
দিনের আলো তখনো ফুল হয়ে ফোটেনি। বৃষ্টি চলে গেছে অন্য জগতে। রাহাতের ভাবনাও স্থির হলো। মানুষের কাছ থেকে নিজেকে নিয়ে যাবে সে অনেক দূরে। যে মানুষের ওপর থেকে প্রতিদিন ভেঙে যাচ্ছে তার বিশ্বাস। হচ্ছে না প্রেম। শুধু যন্ত্রণা বাড়ছে। শরীরের ওপর সময় অসময় অত্যচার করছে। ভালোবাসার কথা প্রকাশ করতে পারে না। ভয়ে সংকুচিত হয়ে থাকে। মানুষকে দিন দিন ভয়ঙ্কর মনে হয় তার। মানুষের হাত থেকে নিরাপদ থাকতে মানুষকে পাহারায় রাখে মানুষ। তাদের পাশে বাস করবে না সে। কীভাবে একজনের ওপর দিয়ে বিশ্বাস তুলে নিয়ে আর একজনের ওপর বিশ্বাস রাখে? আজব প্রাণী মানুষ। তার প্রতিবেশী হবে কাক। প্রেম হবে প্রকৃতির সঙ্গে। চলে যাবে পাখির দেশে। সেই সকালে সদ্য স্নান করা পৃথিবীর গায়ে পা রাখল। নগ্ন পা। তখন খুব মনে পড়েছিল শশির কথা। কিছুক্ষণ থম মেরে দাঁড়িয়েছিল গলির মুখে। শশির মুখটা সরাতে সময় লাগল। আটকে দিচ্ছিল বারবার। তারপর আবার হাঁটা শুরু করল। এই পথ ধরে সে হেঁটে যাবে কোলাহল মুক্ত এক নির্জন অরণ্যে। যেখানে মানুষ থাকে না। কোনো আয়না থাকবে না। দেখবে না সে নিজের মুখ। কখনো অনুভব করবে না মানুষ। বা তার পূর্ব পুরুষ মানুষ ছিল। তার ওপর থেকে কেউ বিশ্বাস হারাবে না। কারও ভয়ে সে মুখ লুকাবে না। কারও শরীর দেখার নেশা থাকবে না। কারও রমণ দেখবে না। প্রেম থাকবে কিন্তু কাম থাকবে না। হাঁটতে হাঁটতে চলে এল মহাসড়কে। দাঁড়াল বটগাছের নিচে। এখানে বাস দাঁড়াবে। ওর পেটে ঢুকে পড়বে। তারপর চলে যাবে এই শহরের বাইরে। খানিক পরে একটা ডাবল ডেকার এসে দাঁড়াল। উঠে পড়ল দোতলায়। বসল জানালার কাছে। চুপচাপ বসে আছে। তখনো একটা মুখ চোখের সামনে। শশি। এই বাসে শশি আছে? তাহলে শশিকে নিয়ে সে হারিয়ে যাবে অন্য এক পৃথিবীতে। কেন সে শশিকে নিয়ে যাবে? সে তো মানুষ ছেড়ে দূরে থাকবে। শশি মানুষ না? ও শুধু প্রেম? না কোনো মোহ? না কোনো আকর্ষণ? কিছু আলাদা করতে পারছে না। সরাতেও পারছে না ওই মুখ। শশির মুখটা মনে হলেই রমণের দৃশ্যটাও সামনে আসে। 

এক খণ্ড আলো এসে ঠিকড়ে পড়েছে রাহাতের চোখে-মুখে। তার সামনে পেছনে বসছে এই শহরের ব্যস্ত মানুষ। গন্তব্যে পৌঁছানোর তাড়ায় অস্থির তারা। রাহাতের তাড়া নেই। তার গন্তব্য নেই। সে হারাতে চায়। যেখানে মানুষ নেই সেই অরণ্যে। কোথায় আছে এমন অরণ্য জানে না। মাথাটা এলিয়ে দিল সামনের চেয়ারের পিঠে। দুচোখ ভেঙে পড়ল রাত জাগা ঘুমের ভারে। ঘুমটা বেশ গভীর হয়ে নামল। চশমাটা খুলে পড়ল পায়ের নিচে। পিষে গেল দৃষ্টি শক্তি। সেই শব্দে মাথা তুলল। চোখের সামনে আলো নেই। ঝাপসা দেখছে। কী যেন ভেবে মাথাটা নুইয়ে দিল। নামল ঘুম। গত রাতের বৃষ্টির মতো। বাস চলছে। গড় গড় করে। কখনো স্টেশন পেলে দাঁড়াচ্ছে। নামছে মানুষ। নতুন করে ওঠছে। একটা আসন পেতে ছুটছে। কেউ দাঁড়িয়ে আছে গা ঘেঁষে। উৎকট গন্ধ বিরক্ত করে তুলছে। রাহাতের স্টেশন নেই। শেষ যেখানে বাস থামবে সেখানে নেমে পড়বে সে। হাঁটা শুরু করবে অরণ্যের দিকে। কতক্ষণ এভাবে বসেছিল জানে না। এরপর বাসের গায়ে কে যেন থাপ্পড় মেরে ডেকে চলছে। নামুন। নামুন। 

মাথা তুলল রাহাত। দেখল সে ছাড়া কেউ নেই। এখন নামতে ইচ্ছে করছে না। এমন একটা জায়গার সন্ধ্যানে নেমেছে সে যেখানে মানুষ নেই। মানুষ থাকবে না। বাসে থেকে গেলেই তো পারে। খানিক পরেই মানুষ উঠতে শুরু করল। বাসটা ঘুরে হয়তো চলে যাবে ফেলে আসা স্টেশনে। রাহাত নেমে পড়ল। স্থির পায়ে দাঁড়িয়ে তাকাল বাসটার দিকে। ও ফেলে আসা জীবনে ফিরে যাচ্ছে। সে কেন পারছে না সেই জীবনে ফিরতে? শশির নগ্ন গোসল দেখতে। পাশের বাসার রমণের দৃশ্য দেখতে। ছাদে দাঁড়িয়ে সিগারেট টানতে। কাকগুলোর কথা খুব মনে পড়ল। মনে পড়ল আর একটা জীবনের কথা। যে জীবনে সে ঘুড়ি হয়ে উড়ে বেড়াত আকাশে। নাবিক হয়ে জাহাজ ভাসাত সমুদ্রে। বাড়ির পেছনে ছোট্ট ওই পুকুরটা ছিল তার সমুদ্র। মেলা থেকে কিনে আনা টিনের নৌকাটাকে জাহাজ ভাবত। সেই তার শৈশব। সেই ফেলে আসা পথ। কতবার ফিরতে চেয়েছে সেই মায়ের কাছে। যে তাকে আগলে রাখত বুকে। পারেনি ফিরতে। মা এখন অন্যের ঘরে। বাবার নতুন ঠিকানা হয়েছে। সে কার? এরও উত্তর মেলেনি আজও। এখন কেউ তাকে আগলে রাখে না। কত দূরে চলে এসেছে। কেউ তাকে ডাকে না। এরপর হাঁটতে শুরু করল। ডান দিকে মোড় নিয়ে খানিক সামনে ইট বিছানো পথ ধরে। এ পথেও মানুষ হাঁটে। তাই বেশিক্ষণ হাঁটবে না সে। তারপর সামনে গিয়ে দেখল কাঁচা মটির পথ। নিখাদ কোনো অরাণ্যের পেটে চলে গেছে। মানুষের পায়ের ছাপ নেই। নেমে পড়ল সেই পথে। হাঁটতে হাঁটতে চলে গেল বহুদূরে। 
পেয়ে গেল সেই নির্জন মানবশূন্য অরণ্য। যা সে খুঁজে ফিরছে। হাঁটছে আপন মনে। পাখিরা গান করছে নিজস্ব সুরে। কত রকম ডাক পাখির। মুগ্ধ হয়ে যায়। হারিয়ে যায় মনের জানালা খুলে। নিজের জগত রেখে। প্রজাপতি উড়ছে ডানা মেলে। সোনালি ডানার চিল তার মাথার ওপর। হঠাৎ পা চলা থেমে গেল। কিসের একটা শব্দে তার ভাবনা ভাঙল। টেনে ধরল লাগাম। রাহাত দাঁড়িয়ে আছি নিশ্চুপ। শব্দটা আর হচ্ছে না। এই শব্দটা মানুষের। সেটা বুঝতে পারল সে। তাহলে এখানেও মানুষ আছে। মানুষ নেই কোথায়? সেখানে যাবে সে। আবার হাঁটতে শুরু করল। মনে হলো তার পেছনে কেউ হাঁটছে। এবার ফিরে তাকাল। হ্যাঁ, তার পেছনে এক তরুণী। বছর সতের আঠার হবে বয়স। দূর থেকে মুখটা অনুমান করতে পারছে না। শশি এসেছে নাকি! হতে পারে শশি। তা তার পেছনে শশি আসবে কেন? শশি জানবে কী করে সে এই অরণ্যে হারিয়ে যেতে এসেছে। নিশ্চুপ দাঁড়াল রাহাত। তরুণী কাছে এলে দেখবে। তরুণী আসছে না। তার পায়ে পা মিলিয়ে চলছে তরুণী? কোথা থেকে এলো? কেন তার পেছন ধরল? নানা প্রশ্ন জাগছে মনে। কিছু বলল না রাহাত। দাঁড়ালও না। আবারও হাঁটা শুরু করল। হঠাৎ তার বিষণ্ন মনটা উৎফুল্ল হয়ে ওঠল। চলার গতি কমল। মন চাচ্ছে মেয়েটা আরও কাছে আসুক? পাশে হাঁটুক। মনের খবর সে জানে না। তবে এমন একটা কিছু হচ্ছে। না হয় চলার গতি কমবে কেন! মানুষের কাছ থেকে দূরে সরে এলো। আবার মানুষের জন্য পা শ্লথ হয়ে আসছে। 

রাহাতের সামনে তখনো গন্তব্য নেই। আছে একটা জঙ্গল। থাকার চিন্তা নেই। খাবারের কথা ভুলে গেছে। ওই তরুণী তার মনে প্রবল আগ্রহ জাগিয়েছে জীবনকে উপভোগ করার। মনে পড়ল শশির কথা। সেই রমণের দৃশ্য ভেসে ওঠল চোখে। এসব মনে হলে শরীরটা নিয়ন্ত্রণ হারায়। তবু পেছন ফিরে তাকায় না সে। তরুণী ভাববে তাকে দেখছে। এই তরুণী এলো কোথা থেকে, সে চিন্তা নামেনি মাথা থেকে। মন বলছে শশি। এই গহিন অরণ্যে যাচ্ছেই বা কোথায়। তার মতো মানুষ থেকে দূরে সরে যেতে চাচ্ছে নাকি? হতে পারে। আসুক কাছে। হাঁটুক পাশে। সংলাপ নাই হোক, দৃষ্টি বিনিময় তো হবে। কতক্ষণই চুপ করে থাকবে? জানার কৌতূহল তৈরি হবে। তারপরও অনেক্ষণ হাঁটল। পথ খুব আগাল না। একটা জলাশয়ের সামনে এসে দাঁড়াল। নানা রঙের মাছ সাঁতার কাটছে। স্বচ্ছ জলের নিচে পাথরের কণাগুলো দেখা যাচ্ছে। সেদিকে তাকিয়ে আছে রাহাত। তরুণী তখনো আসেনি। তা কেন? নিজেকে অবদমন করতে পারছিল না সে। মানুষ ছেড়ে এসে মানুষের খোঁজে ছুটে চলছে মন। তবু তাকাচ্ছে না। ভাবছে চলে গেল নাকি। কোথায় যাবে এই জঙ্গলে? না কোনো বিপদ হলো? এরপর পেছন ফিরে তাকাল। দেখল তার দৃষ্টির শেষ সীমায় লাঠিতে ভর করে ঠুকরে ঠুকরে পথ চলছে এক বৃদ্ধা। চমকে উঠল রাহাত। কোথায় গেল সেই তরুণী? কোথা থেকে এল এই বৃদ্ধা? বিস্ময়ের দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। কয়েক মিনিটেরই তো ব্যবধান। তার মধ্যে কী হতে পারে? পেছন দিকে চলতে শুরু করল। যাবে ওই বৃদ্ধার কাছে। জানতে চাইবে এই রহস্যের নাড়ি নক্ষত্র। বৃদ্ধার সামনে গিয়ে দাঁড়াল। বৃদ্ধা তাকিয়ে আছে। স্থির দৃষ্টিতে। রাহাতের খুব চেনা লাগছে। বৃদ্ধা বলল, অবাক হচ্ছ বুঝি! আমি সেই তরুণী। যাকে তুমি প্রথম দৃষ্টিতে দেখেছিলে। বিশ^াস হচ্ছে না? প্রথম দৃষ্টি আর শেষ দৃষ্টির পার্থক্য যান? অনেকগুলো বছর পার হয়ে গেছে।   

—তোমাকে আরও আগে দেখেছি আমি। কোথায় দেখেছি বলো।
লজ্জায় মুখ লাকুতে চাইল বৃদ্ধা। থাক। ফেলে আশা দিনের কথা মনে করতে নেই। সে কথা সব সময় সুখের হয় না। তাই ভুলে থাকাই ভালো।
—না আমি জানতে চাই। কোথায় দেখেছি তোমায় বলো তো।
—সে আমি জানি না। আমার নাম শশি। 
চমকে উঠে থমকে দাঁড়াল রাহাত। শশি। বিশ্বাস হয় না তার। কিন্তু ভুলও মনে হচ্ছে না। শশির ডান গালে তিলক দেখেছে সে। এখনো সেটা আছে। মুখটা ভুলতে পারবে না। তবে শশির এ অবস্থা কেন? তার পিছেই বা হাঁটছে কেন? শশি কী জানত সে তার নগ্ন শরীর দেখার নেশায় পড়েছিল। একটা কথা বলতে এসেছিলাম। ভুল পথে চলছ তুমি। ভুল পথে জীবন নাই। ওখান থেকে ফিরে আসা যায় না। তুমি ওই জলাশয়ের কাছে গিয়ে মুখটা ধুয়ে আস। 

রাহাত জলাশয়ের কাছে গেল। মুখটা নিচু করতেই আতকে ওঠল। দেখল এক বৃদ্ধের ছবি। বড় বড় দাড়ি। এ কার ছবি দেখছে। মুখ না ধুয়ে ফিরে এলো। 

—মুখ না ধুয়ে চলে এলে যে? 
—জলের ভেতর কার মুখ ডুবে আছে। ভয়ে আঁতকে উঠে চলে এসেছি।
—কার মুখ? চিনতে পারোনি?
—জানি না কার মুখ। কোনো এক বৃদ্ধর মুখ। লম্বা সাদা দাড়ি।  
—শশি হাসল। নিজেকেই চিনতে পারছ না। ওটা তোমারই মুখ। বুড়া হয়ে গেছ তুমি।

বিশ্বাস হয় না রাহাতের। সে বুড়া হতে পারে না। দেখতে পারছে না নিজের মুখ। আয়না নেই। কাকে জিজ্ঞেস করবে সে বুড়া হয়েছে কিনা। এই বৃদ্ধা ছাড়া কেউ নেই। বিশ্বাস করতে হবে এই বৃদ্ধার কথা।

রাহাতের হাত ধরল বৃদ্ধা। জঙ্গলের ভেতর গিয়ে বসল গাছের নিচে। এরপর বলল তার জীবনের গল্প। তোমাকে ভালো লেগেছিল খুব। কিন্তু বলতে পারিনি। আমার শরীরের নেশায় পড়েছিলে তুমি। ওখানে ভালোবাসা ছিল না। কাম ছিল। মোহ ছিল। ওটা বেশি সময় থাকে না। কাম যদিও প্রেম তৈরি করে। তবে শেষ পর্যন্ত কাম পরাস্ত হয়ে দীর্ঘস্থায়ী হয় প্রেম। আমি লুকিয়ে লুকিয়ে দেখতাম তোমায়। দেখলাম সব ছেড়ে তুমি চলে যাচ্ছ শহরের বাইরে। তখন নিজেকে আটকে রাখতে পারলাম না। নিজের অজান্তেই পিছু নিলাম। হাঁটতে ছিলাম। এটায় প্রেম ছিল। আমাকে ভোগের বস্তু বানাতে না পেরে অভিমানে তুমি শহর ত্যাগ করলে। আমার প্রতি সেই নেশা, সেই আকর্ষণ আছে তোমার?

রাহাত তাকিয়ে আছে। সে দেখছে অতীতের দৃশ্য। এসব তার কানে যাচ্ছে না। সন্ধ্যা নেমেছে। দেখল তার সামনে পৃথিবী নেই। পাখির গান নেই। ফুলের বাগান নেই। জলাশয় নেই। সেই বৃদ্ধা নেই। চারদিক থেকে ধেয়ে আসছে অন্ধকারের ঢেউ।


• ঢাকা        

menu
menu