মোল্লা, হোজ্জা বা আফিন্দির গল্প

এক.

হোজ্জার বাড়িতে চুরি হয়েছে। এক প্রতিবেশী বললো, হোজ্জা তুমি বড্ড অসংসারী। তোমাকে কখনো দরজা বন্ধ করতে দেখিনি। এতো বেখেয়ালি হলে হয়? সান্ত্বনা জানাতে এসে এক বন্ধু বললো, আহা, হোজ্জা, তুমি তো সারাটা জীবন দায়িত্ব-জ্ঞানহীন রয়ে গেলে। এ হালকা দরজা কেউ লাগায়? তুমি বুঝি একটা ভালো দরজাও লাগাতে পারো নি?
হোজ্জার বৌ এককাঠি সরেস, তাহলে বোঝেন আপনারা কার সঙ্গে সংসার করছি! কত দিন ধরে বলছি সদর দরজায় ছিটকিনি লাগাতে! এখন আমার সব গেল গো...। বলেই হোজ্জার বৌ কাঁদতে শুরু করলো। অসহায় হোজ্জা চারদিক তাকিয়ে কোনো উপায় নেই দেখে বলে উঠলো, ও! তাহলে সব দোষ আমার। চোরের বুঝি কোনো দোষ নেই?

এরকম অর্থহীন বোকা-সোকা, হাস্যকর শত-সহস্র গল্পের স্রষ্টা এবং প্রধান চরিত্র হয়ে বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ হয়ে আছেন মোল্লা নাসিরউদ্দিন। জাতিসংঘের অঙ্গ-প্রতিষ্ঠান ইউনেস্কো মোল্লা নাসিরউদ্দিনের গল্পগুলোকে স্মরণীয় করতে ১৯৯৬-৯৭ সালকে মোল্লা নাসিরউদ্দিন বর্ষ ঘোষণা করেছে।

তাঁর মূল নাম নাসিরউদ্দিন। কিন্ত তিনি প্রধানত তিনটি পদবিতে পরিচিত। উচ্চারণের নানাভেদ সত্ত্বেও মোল্লা হোজ্জা বা আফিন্দি–এ তিনটি পদবি তাঁর নামের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। এ তিনটি নাম আবার তিনটি প্রধান অঞ্চলের পরিচয় নিয়ে প্রকাশিত। মোটা দাগে বলা যায়, হোজ্জা তিনি তুরস্কে, মোল্লা আফগান বা ইরানে আর আফিন্দি তিনি চীনের। তিনটি পদবিই কম-বেশি সমঅর্থ ধারণ করে। জ্ঞান, বিচক্ষণতা, বুদ্ধিমত্তা, মরমীবাদ এসবের সঙ্গে শব্দগুলো সম্পর্কিত।

দুই.
মোল্লা নাসিরউদ্দিন বিশ্ব-ঐতিহ্যের একটি অনন্য চরিত্র। মোল্লার নামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে হাজারো আনন্দময় গল্প | মহামূল্যবান মণি-মুক্তার মতো রত্নরাজির এক ভাণ্ডার। তাঁর নাম সারাবিশ্বে ছড়িয়ে থাকলেও পশ্চিম এশিয়ার মানুষজন তাঁর সবচেয়ে বড় দাবিদার। তুরস্ক মোল্লাকে কেবল তাদের সম্পদ মনে করে না, তারা মোল্লার কবর দেখিয়ে প্রতিবছর হোজ্জা-মেলার আয়োজন করে। প্রতি বছর তুরস্কের আকসিরে অনুষ্ঠিত সে মেলায় লোকজন হোজ্জা-উৎসবে হোজ্জার পোশাক পরে, হোজ্জার নামে প্রচলিত জনপ্রিয় কৌতুকগুলো পরিবেশন করে । সারা পৃথিবী থেকে হোজ্জাপ্রেমীরা সে মেলায় অংশ নিতে আসে।

গ্রীকরা অনেক কিছু তুর্কিদের থেকে নিয়েছে, তারাও হোজ্জার বুদ্ধিদীপ্ত মন্তব্যগুলোকে তাদের লোক-ঐতিহ্যের অংশ মনে করে। মধ্যযুগে মোল্লা নাসিরউদ্দিনের গল্পগুলোকে ব্যবহার করা হতো দুর্বিনীত কর্তৃত্বকে ব্যঙ্গ করার উদ্দেশ্যে। একটি উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে।

বাদশাহর ইচ্ছে হলো হোজ্জাকে জব্দ করবেন। তিনি দরবারে উপস্থিত সকলকে বললেন, তোমরা সবাই একটা করে মুরগির ডিম জামার পকেটে লুকিয়ে রাখো। আমি যখন বলবো এ ডিম তুমি নিজে পেড়েছো বলে আমাকে দেবে। সবাই প্রস্তুত। এবার বাদশা হোজ্জাকে ডাকলেন। হোজ্জা আসার পর বাদশা ঘোষণা দিলেন, আজ দরবারে যে একটি করে মুরগির ডিম পাড়তে পারবে সে এক হাজারটি করে ডিম উপহার পাবে। যে ব্যর্থ হবে সে এক হাজারি জরিমানা গুনবে। সবাই একে একে তাদের পাড়া ডিম বাদশাহর কাছে জমা দিলো। বাদশাহ বললেন, তোমার ডিম কই হোজ্জা? হোজ্জা বললো, আপনার দরবারে সবাইতো মুরগি হুযুর। আমি একমাত্র মোরগ হুযুর। আমি তো ডিম পাড়তে পারি না। এই যে দেখেন আমার ডাক : কক ক র ক।

গত শতকের শেষ দশকে সোভিয়েত ইউনিয়ন-কালে একটি ছবিতে এক ধূর্ত ধনবাদী রাষ্ট্রনায়কের বিপরীতে হোজ্জার বুদ্ধির চমক তাঁকে সে দেশের জন-নায়কে পরিণত করে।

তিন.
হোজ্জার গল্পগুলো আরব ঐতিহ্যে জোহার ছায়ায় দেখা যায় এবং সিসিলির লোককাহিনিতে পুনরায় হাজির হয় সেগুলো। এ গল্পগুলো পাওয়া যায় মধ্য-এশিয়ায়, রাশিয়ার বলদাকিয়েভে, ডন কুইক্সোটে এমন কি প্রাচীন ফরাসি গ্রন্থ মেরি দ্য ফ্রান্সে। মোল্লাকে একই সঙ্গে নানান ভূমিকায়, নানানরূপে আমরা-দেখি। এসব বৈচিত্র্যময় বৈশিষ্ট্য অনেক সময় পরস্পর বিপরীতমুখী মনে হতে পারে। একই সঙ্গে তাঁকে মনে হয় বেকুব ব্যক্তি, অসম্ভব ধূর্ত কিংবা মরমীবাদের অধ্যাপক। ইদরিস শাহ (১৯২৪-১৯৯৬) আমাদের জানাচ্ছেন, পীর-দরবেশগণ তাঁদের শিক্ষায়, জীবনাচরণে হোজ্জার গল্পের অন্তর্নিহিত সৌন্দর্য ব্যবহার করে চলেছেন শত শত বছর ধরে। তুরস্ক যে দেশ কিছুকাল আগেও (বিংশশতকের গোড়ার দিকে) পীর-দরবেশদের নিশ্চিহ্ন করতে চেয়েছে সে দেশও হোজ্জার গল্পের বই বের করে পর্যটক আকর্ষণে, নানা আয়োজন করে হোজ্জা মেলায়, তা কেবল তার গল্পের ভাবগত সৌন্দর্য মানুষ আকৃষ্ট হয় বলেই।

প্রতিটা গল্প মোল্লা নাসিরউদ্দিনকে ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশে উপস্থাপন করে, তবে সে উপস্থাপন হয় কৌতুকতর এবং জীবনের বিভিন্ন অবস্থার এক একটি দিক নির্দেশনা যেন। এ গল্পগুলো রসগ্রাহীকে সম্মোহিত করে এর হাস্যকর উপাদানে, যেগুলো পূর্ণ থাকে জীবনের গভীরতর দার্শনিক উপলব্ধিতে, শিক্ষা দেয় আর চিন্তার উদ্রেক ঘটায়। সারা বিশ্বে পণ্ডিতেরা মোল্লাকে নিয়ে প্রচুর কাগজ-কলম-কালি খরচ করে চলেছে তবে এতে তাঁর খুবই কম আসে যায়, কারণ তিনি বলেন, ‘আমি বেমানান জীবনের একজন মানুষ’। অনেকে তাঁর মুত্যু দিনটা আবিষ্কার করতে চায় তার মাহাত্ম খুঁজে পেতে আর উৎসবে মেতে উঠতে।

সুফিরা মনে করে, গভীর আত্মোপলব্ধি জ্ঞানের প্রকৃত পথ-প্রদর্শক। এ গল্পগুলোকে সুফিরা তাদের জীবনের অংশ করে তোলে চর্চার মধ্য দিয়ে। সুফিরা বলে, যে গল্পগুলো মনে দাগ কাটে সেগুলো নিজের করে নাও। এভাবেই তাঁর গল্পে জীবনের গভীর দার্শনিক উপলব্ধিতে পৌঁছানো সম্ভব। আর যারা সুফিদের অনুগামী নয়, আধ্যাত্মিক তাৎপর্যে এ গল্পগুলো পড়তে আগ্রহী নয় তাদের জন্য ইদরিস শাহের (১৯২৪-১৯৯৬) উপদেশ হলো : হাজার বছর ধরে অন্যরা যেভাবে পড়ছে তোমরাও সেভাবে পড়, আনন্দ উপভোগে কোনো বাধা নেই।

চার.
পূর্বেই বলেছি, হোজ্জা, মোল্লা বা আফান্দি/আফেন্দি যে নামেই ডাকি না কেন তাঁকে কখনো মনে হয় প্রবল জ্ঞানী, বুদ্ধিমান আবার কখনো বোকা। বিস্ময়করভাবে কখনো কখনো দুটোই। আদতে তিনি অনন্য এক জ্ঞানী ঋষি অথবা দার্শনিক। মোল্লার বেশির ভাগ কাজকে কখনো মনে হয় অযৌক্তিক, কখনো আবার যৌক্তিক, কখনো একবারে স্বাভাবিক আবার চরম অস্বাভাবিক, অথবা অতি নগণ্য অথবা সুখকর বা গভীর চিন্তার উদ্রেককারী। তিনি বলেন, অপ্রথাগতভাবে, কিন্তু তা একাধারে হাস্যকর ও কার্যকর। প্রশ্ন হলো তাহলে এ গল্পগুলো কীভাবে শত শত বছর ধরে চলে আসছে। এটা মনে করা হয় যে, মোল্লার গল্পগুলো একজন সত্যিকার মানুষের গল্প। যেমন, একটি আপাত তাৎপর্যহীন একটি গল্প আছে এমন :

মোল্লার কিছু টাকার দরকার। সম্পন্ন এক প্রতিবেশীর কাছে গিয়ে বললো, আমার হাজার পঞ্চাশেক টাকার দরকার। ধার দিলে খুব উপকার হয়। লোকটা মোল্লার কথা শুনে তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠলো, তোমাকে আমি হাড়ে হাড়ে চিনি গো নাসিরুদ্দিন। তোমাকে ধার দেবো না। প্রতিবেশীর কাছে এমন ব্যবহার পেয়ে খুব মন খারাপ হলো মোল্লার। সে পাড়া ছেড়ে নতুন পাড়ায় বাসা ভাড়া নিলো। কিছু দিনের মধ্যে আবার মোল্লার টাকার দরকার হলো। এক প্রতিবেশীর বাড়ি গিয়ে জিজ্ঞেস করলো, আপনার ব্যবসা কেমন চলছে? লোকটা বললো, ভালো। কেন বলুন তো? মোল্লা বললো, তাহলে তো আমারও ভালো। আমাকে লাখ খানেক টাকা ধার দিতে হয় যে! লোকটা অবাক হলো, আপনাকে চিনি না, জানি না, আপনাকে কীভাবে এক লাখ টাকা ধার দেই? শুনে মোল্লার গলা চড়ে উঠলো রাগে, আপনাদের মতো টাকাঅলাদের নিয়ে তো মহা মুশকিল! এক জন আমাকে টাকা ধার দিলো না চিনে বলে। আর আপনি দিবেন না চেনেন না বলে! আমি তাহলে কার কাছে ধার পাই বলেন তো?

সে যাই হোক, শুধু তিনদেশ নয় নানা দেশ মোল্লাকে তাদের সম্পদ মনে করে। এটা সুনিদির্ষ্ট করে এখন বলা অসম্ভব যে মোল্লা আসলে কোথায় ছিলেন। কোথা হতে তাঁর এ সকল অপ্রথাগত, হাস্য-রসাত্মক কিন্তু গভীর তাৎপর্যময়ধারী গল্পগুলোর উদ্ভব হয়েছিলো।

পাঁচ.
মোল্লা নাসিরের গল্প শত শত বছর ধরে চলে আসছে। এসব গল্প সময়ে সময়ে নানাভাবে পরিবর্তিত হয়। সময়ের ব্যবধানে নতুন নতুন গল্প যোগ হয়। প্রচলিত গল্পগুলো সময়ের প্রেক্ষাপটে নতুনরূপ নেয়। এবং তাঁর গল্পগুলো নতুন নতুন দেশে ছড়িয়ে পড়ে। যেমন, মোল্লার নামে প্রচলিত হাল আমলের গল্পে প্রযুক্তিও বিষয় হয়ে উঠেছে।

একদিন হোজ্জাকে তাঁর এক প্রতিবেশী জিজ্ঞেস করলো, তুমি কি শুনেছো মোল্লা দোপেয়াজার কৌতুকের সাইট হ্যাক হয়ে গেছে?

হোজ্জা বললো, তাতে আমার কী?

প্রতিবেশী পাত্তা না পেয়ে বললো, আমি তো বাজারে শুনে এলাম হোজ্জার কৌতুক সাইটটিও হ্যাকাররা হ্যাক করেছে।

শুনে হোজ্জা নির্বিকার ভঙ্গিতে বললো, তাতে তোমার কী?

এ গল্পটিকে আমরা তুলনা করে দেখতে পারি সেই বিখ্যাত গল্পটির সঙ্গে।

হোজ্জার খুব বকশিশ দেওয়ার অভ্যাস হয়েছে। সুসংবাদ পেলেই হোজ্জা বকশিস দেয়। এক প্রতিবেশী বকশিসের লোভে হোজ্জার কাছে এসে বললো, মোল্লা তোমার জন্যে সুখবর আছে।

: কী? হোজ্জা জানতে চাইলো। প্রতিবেশী উচ্চস্বরে বললো, তোমার পাশের বাড়িতে আজ ভালো রান্না হচ্ছে। হোজ্জা দাওয়াত পায় নি। নিস্পৃহ গলায় বললো, তাতে আমার কী? আরেকদিন হোজ্জার বাড়িতে ভালো রান্না-বান্না হচ্ছে। খাবারের লোভে প্রতিবেশী আজও হাজির।

: মোল্লা সাহেব আপনার গৃহিণী ভালো রাঁধেন। রান্নার খুশবু চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। লোকটি উচ্ছ্বসিত ভঙ্গিতে বললো। হোজ্জা এবারও নির্বিকার। বললো, তাতে তোমার কী?

ছয়.
তাঁর গল্পের বিষয়বস্তু এবং বিচক্ষণতা নানান লোকের কল্পনা আর পর্যবেক্ষণ মিলে-মিশে কিংবদন্তিহয়ে ওঠে। বেশিরভাগ ভাগ মানুষ অনেক আগের গ্রামের একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে নাসিরউদ্দিনকে মনে করলেও তাঁর গল্পগুলোর মধ্যে তাঁর তাদের কালের চিন্তাশীলতার পরিচয় খুঁজে পায়।

আজকের দিনে মোল্লার গল্পগুলো সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। পৃথিবীর নানান ভাষায় এগুলো অনূদিত হয়ে আসছে। কোনো কোনো অঞ্চলে মোল্লার ধরনে নতুন নতুন চরিত্র গড়ে উঠেছে। সে সব চরিত্রের গল্পে মোল্লার কাহিনিগুলো ঢুকে পড়েছে।

নানান কারণে মোল্লা মানব-সংস্কৃতির অংশ হয়ে আছেন। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে উচ্চারিত একটি চরিত্র মোল্লা নাসিরউদ্দিন। তাঁর নামে প্রচলিত হাজার রকমের নানান গল্পে যে কোনো মানুষ তাঁর নিজের পরিস্থিতিতে নিজেকে খুঁজে পেতে পারেন। সুফিরাও তাঁদের দৈনন্দিন-চর্চায় চর্যায় ধ্যানে মোল্লার গল্পকে অবলম্বন করে নেয়। এমন একটি গল্পে মোল্লা মানব-চরিত্রে সত্যের উপলব্ধিকে ব্যক্তিগত বলে উপস্থাপন করেন। আজ সত্য-মিথ্যাকে ব্যক্তিগত দৃষ্টিকোণে বিচারের যে আওয়াজ উঠেছে দার্শনিকতায়, ইতিহাস ব্যাখ্যায় মোল্লা তার দফারফা করেছিলেন বহু আগে এ গল্পে।

‘আইন এমন যে, মানুষকে কখনো ভালো করতে পারে না’। মোল্লা বললেন, রাজাকে। ‘মানুষের বরং এমন কিছুর চর্চা করা দরকার যাতে তাদের ভেতরের সত্য জাগ্রত হতে পারে। অন্তরের সত্যের এই রূপ, আপাত সত্যের কাছে খুবই দুর্বল।’

রাজা মোল্লার সঙ্গে একমত হলেন না। রাজা সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি আইন করে প্রজাদের সত্য পালনে বাধ্য করবেন। তিনি তাদেরকে সত্যবাদী করে তুলবেন। রাজধানীতে প্রবেশ করতে শুরুতেই একটা গেইট পার হতে হয়। সেখানে তিনি একটা ফাঁসির মঞ্চ করলেন। পরদিন রাজার একদল সেনা তাদের নেতাসহ গেইটে অবস্থান নিলো, কারা প্রবেশ করছে তা পরীক্ষার জন্য। একটা ঘোষণা এলো : সবাইকে প্রশ্ন করা হবে। যে সত্য বলবে সে রাজধানীতে প্রবেশ করবে। যে মিথ্যা বলবে তাকে ফাঁসিতে চড়ানো হবে।

নাসিরউদ্দিন এগিয়ে গেলো।

: তুমি কোথায় যাচ্ছো?

: আমি আমার পথে চলেছি, ফাঁসিতে চড়তে। নাসির উদ্দিন আস্তে আস্তে বললো।

: আমরা তোমাকে বিশ্বাস করি না।

: ঠিক আছে, যদি আমি মিথ্যে বলি, আমাকে ফাঁসি দিও।

: আমরা যদি তোমাকে মিথ্যার জন্যে ফাঁসি দেই তাহলে আমরা তা-ই করবো যে কাজ তোমার কথাকে
সত্য প্রমাণ করে দেবে।

: তাহলে তোমরা এখন বুঝতে পারলে সত্য কী? সেটা হলো—তোমার সত্য। (চলবে)

কোটবাড়ী, কুমিল্লা

menu
menu