লকডাউন

লকডাউন
মুজাহিদ আহমদ

তোমাকে যদি একখানা 'বর্তন' ভেবে হাতের তালুতে তুলে দেখি, ক্রমেই দৃশ্যমান হবে—তোমার তলদেশ শাক-সবজিতে ভরে গেছে। তোমার সীনা বরাবর আজব সব জীবের মাস্তি, ডুব সাঁতার। গোলাপি ডলফিনের বালুর রাজ্যে বেড়াতে আসা।

তোমার ডানে-বামে আশ্চর্য রকমের জাদুকরী সবুজ। নাম বলতে পারি না আরো এমন সব রঙ। টাটকা ঘ্রাণ ছড়াচ্ছ আচ্ছন্ন বৃক্ষে। ঘোর লেগে যাচ্ছে ধীরে ধীরে। আসমানে ধোঁয়া নেই—বিমানগুলো নোঙর করে রাখা। আপাতত বারুদের যুদ্ধ থেমে গেছে—তাই বারুদের গন্ধও নাই কোনোখানে।

আফসোস—, না বুঝে কতবার তোমাকে ছুড়ে ফেলেছি চৌকাঠ অথবা টেবিলের দিকে—তুমিও রাগান্বিত হতে হতে আজ আমাদের দিকে ছুড়ে মারছো যন্ত্রণার গুঁড়ো।
একযোগে সবকিছু বন্ধ হয়ে গেলো। সীমারেখায়-সীমারেখায় উড়ছে অবরুদ্ধের লাল নিশানা। যাকে সবাই এখন লকডাউন নামে চিনে। কতদিন হলো জল চিরে দুভাগ করছে না নাবিকের চোখ।

ও 'বর্তন'— শাক-সবজিতে ভরে উঠছো। ক্ষয়ে যাওয়া নীল আবারও ভরছে নীলে। আধো মরা সবুজ ভরে উঠছে ঘাঢ় সবুজে।

মৌলভীবাজার।

menu
menu