এ কেমন প্রেমের আগুন

পুজোর ছুটি

পুজোর ছুটি ফুরিয়ে গেলো হয়নি দেখা রাত
হয়নি আমার চাঁদের সাথে গভীর মোলাকাত
হয়নি দেখা জোনাক আলো ঘুমন্ত গাছপালা
আঁধার রাতের কানে কানে হয়নি কিছুই বলা

রাতটা গেলো চাঁদটা গেলো আমি ছিলাম ঘুমে
হইনি কারো পথের রেখা, হইনি শিখা মোমে
হইনি আকাশ হলাম না রাত হলাম শুধু ঢেউ
পুজার ছুটি ফুরিয়ে গেলো হাত ধরেনি কেউ

বেঁচে থাকা নিছক অর্থহীন

জীবনটা যে দুঃখ দিয়ে ভরা
এটুকু নেই বুঝতে আমার বাকি
জরা মৃত্যু বিষাদ কাঁটায় ঘেরা
জীবন মানে ভয়াল একটা ফাঁকি

বিরহ আর করুণ পরিণতি 
এই তো হলো জন্মের ইতিহাস 
দুঃখ ব্যথা অশ্রুজল আর ভীতি
জীবন মানে গভীর পরিহাস

ব্যর্থতা আর নিস্ফলতার গ্লানি
বয়ে যাচ্ছে জীবন নদীর মাঝি
যুদ্ধ ফ্যাসাদ দ্বন্দ্ব হানাহানি
জীবন মানে পুষ্পবিহীন সাজি

জীবন মানে মৃত্যুর আরেক নাম
বেলা শেষে সবাই মূল্যহীন
শুধু শুধু যাপনে বদনাম
বেঁচে থাকা নিছক অর্থহীন।

সবুজ মেয়ে 

শেষ বিকেলের আলো তোমার চোখে।
নরম নরম সবুজ পাতার সুখে
বাবুই এসে বাসা বানায় তাতে।
মৃদু হেসে তুমি বললে, ও শিল্পী পাখি
বুকে জমা দুঃখ কোথায় রাখি
প্রাণ উতলা নিষিদ্ধ মৌতাতে।

আমি তখন অস্তাচলে উপেক্ষিত পর।

সন্ধ্যা তখন নেমে আসছে প্রায়, সব
পাখির কণ্ঠে ফেরার কলরব
গোধূলিরং অন্তরীক্ষে আঁকা।
আমি বললাম প্রণয়মাখা সুরে, ওহে,
সবুজ মেয়ে দুঃখ কেনো সহে
আমার বুকে দুঃখ যাবে রাখা।

এ কথা শুনে তুমি, কাঁপছিলে থরথর।

শারদ প্রাতের ভুল

যখন        আকাশ থেকে আশ্বিনী রোদ আসছে ধেয়ে ধেয়ে
তখন       শরৎ মেঘে কাশের বনে যাচ্ছো তুমি গেয়ে
তাই         উদাস হৃদয় ব্যাকুল হলো তোমার গভীর রাগে
নাই          হুঁস জ্ঞান আমার মগ্ন হলাম তোমার সুবাস বাগে
যেনো       যাই ছুটে যাই এক্ষুণি, প্রাণ উড়ছে তোমার শাড়ি
কেনো      তোমার বুকের গহীনপুরে হয়নি আমার বাড়ি
স্মরি         তোমার নামটি কন্যা আমি সকাল দুপুর সাঁঝে
বরি          তোমার চরণ, এ মন মাঝে রসের ঘুংঘুর বাজে
সখি         সুর ছড়িয়ে যাচ্ছো তুমি এমন শারদ প্রাতে
আঁখি        কাঁদলো আমার সে সুর শুনে মধুপ মৌতাতে
আমি        মাতাল হলাম বাইরে এলাম ছুটছি তোমার পিছু
তুমি          দাও না ধরা, যাচ্ছো চলে, বলছো না তো কিছু
এমন        আকাশ ভেঙে রোদ পড়ছে এমন উষ্ণ দিনে
কেমন      হঠাৎ করে কাঁদলে তুমি কোন সে অকারণে
বুঝি         আমিও এখন শরৎ হলাম, হলাম কাঁশের ফুল
পুঁজি         নিচ্ছে লুটে তোমার আমার শারদ প্রাতের ভুল। 

 প্রেমের উপমা
                    
আঁধার সন্ধ্যাটাকে বুকে নিয়ে      বেহিসেবে জীবনের জয়গীত গেয়ে
               ধেয়ে চলি নির্বাণ থেকে নিশ্চিন্তপুরের দরজায়
আর কবে আশার আলো হয়ে      দিনশেষের ব্যর্থজীবের মতো ক্ষয়ে
                পিছিয়ে যাই অতীতের অন্ধকার থেকে অমরায়

সুচিস্নিগ্ধ বাতায়নে একা একা      চেয়ে দেখি নীলা রঙে আছে আঁকা
                 এক জীবনের মৃত্যুযাত্রার কথকের প্রোজ্জলতা
খুব সম্ভব অহমিকা দিয়ে ঢাকা      স্থবির নিঃস্পন্দনের জীবনের চাকা
                   মরিচিকায় নিভে আছে জং ধরা যাপনের চিতা

অনীল উচ্ছ্বাসে দেখে গাঙচিল      ধোঁয়াশার রঙে মাতাল’র ঝিলিমিল
                   অন্ধের উপমা নেহাতই একপাক্ষিকে মৃত গ্রহে
সোনারং গোধূলি ছড়ানো ঝিল     একরাশ আঁধারত্বে যদিও কিলবিল
                    প্রেমের উপমা শুধু লেখা যায় প্রিয়তমার দেহে


• মো. আরিফুল হাসান কবি, কথাসাহিত্যিক, সম্পাদক। কুমিল্লা।

menu
menu