তিনটি কবিতা

অভ্যন্তরীন গঠনব্যবস্থা 

ফরাসি আওয়াজে ঢেকে গেছে কিছু স্মৃতির উদ্দেশ্যে
পরিত্রাণের বরদান চাইলেই তারা
বিমূর্ত দর্শনশাস্ত্র ঘেটে আয়োজন করে হোমযজ্ঞ
তখন—
অনাদিকালের বিষাদে পাশফিরে শুয়ে পড়ে রক্ততন্ত্র
স্বভূমিচ্যুত যন্ত্রণা সামলে উঠার সামরিক কায়দা নেই জেনেও
নীরবতার ফুটপাত ধরে বয়ে যাওয়া অভ্যাস
আঁকতে বসে এক একটি স্বস্তিকা চিহ্ন
কিন্তু—
ত্রিকাল জেকে বসা জাগতিক চোখ নিয়ে 
সে কোথায় পালাবো?
নির্বাসনে থাকা বসন্তের মতো
জংশন পেরোলেই জেগে ওঠে চক্রান্তের জ্বর
কারণ একাল বা বহুকাল যাবত 
আমাদের ধমনীতে বইছে নিজেদের ধ্বংস 
                        করার বিস্তীর্ণ অসুখ 

ফটোস্ট্যাট 

অবচেতনের হৃদয় খুঁড়ে যে আয়ু হয়েছে দীর্ঘ
বিষম খাওয়া যুগ নিয়ে তার কোনো মাথা ব্যথা নেই
মনকে পরিণামের মন্ত্র ধরে— 
যোগ সাধনায় উগ্র বিষাদ জেগে উঠলেই
অফিস টাইমের ট্রেন ধরে সে কাঁদতে থাকে।
চোখে লেগে থাকা দৃশ্যের মতন
শরীরে কল্পনার ধাপ উসকে দেয় স্পর্শের ফাঁদ
তখন জনন মরণের রহস্য হয়ে ওঠে দৈবিক
দিব্য উন্মাদনায় কালাতীত সত্তা শিখে সংযমের ভ্রম
লুকিয়ে রাখা নৈরাশ্যের সিলমোহরে খোঁজে
ধাবিত নদীর ছলছল মুক্তি
এরপর— 
বহুকাল কাটিয়েও কেউ হিসেব মিলিয়ে দেখে না
জীবন শূন্য প্রান্তের এক দুর্দান্ত ফটোকপি।

ভূমি রক্ষী

আমাদের অস্তিত্ব আটকে গেছে অন্ধত্বের বৃত্তে
মরচেপড়া বাণী নিয়ে ধর্মযাজক ফিরে তাকালেই
দ্বন্দ্বমুখর হয়ে যায় বর্তমান। 
যুগ পুরুষের খোঁজে তখন... 
স্বাধীনতার মনস্তত্ত্বে জেগে ওঠে চক্রান্ত 
যার প্রাচীন তত্ত্ব পরিমাপ করলে 
পাওয়া যাবে,
টুকরো টুকরো মাতৃ কল্পনার দৃষ্টি
ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে
তারা তবুও স্বত্ত্ব সংরক্ষণের ভূমিকা লিখছে
মমতা কিংবা প্রকৃতির অভিধানে। 


জবা রায়, কবি, ময়মনসিংহ

menu
menu