মন, প্রকৃতি ও সাহিত্যিকের করণীয়

মন কী, তা নিয়ে আমরা অনেকেই অনেক কিছু ভাবি। তবে এই সব ভাবনার ভিত্তিমূল একেক জায়গায় একেক রকম। পাশ্চাত্যে এর অনেক বৈজ্ঞানিক ব্যাখা আছে। জৈব রাসায়নিক তত্ত্ব আছে। কিন্তু প্রাচ্যে মনের সংজ্ঞা মূলত দার্শনিক ও সাহিত্যিক। আমি আমার এই লেখাটিতে সাহিত্যিকের দৃষ্টিকোণ থেকে মন নিয়ে আলোচনা করব প্রথমে এবং তারপর সেই সাহিত্যিকের দায়বদ্ধতা নিয়ে কথা বলব। যেহেতু বাঙালি সংস্কৃতিতে আমি নোঙরবদ্ধ, সেহেতু বাংলাদেশ নিয়েও কথা বলব। আমার এই আলোচনা একান্তই আমার নিজস্ব বোধ ও উপলব্ধিজাত। আমি বিশ্বাস করি  বিজ্ঞান যেখানে শেষ, সাহিত্যের সেখানে শুরু। সে কারণে মন কি তা বোঝার জন্য সাহিত্যের দিকেই যাওয়া সঙ্গত। শুরুতে ভাবনা ও অভিজ্ঞতা নিয়ে কিছু কথা বলে নেয়া প্রয়োজন। 

প্রশ্নটা হল ভাবনা ও অভিজ্ঞতা এ দুটো নিজেদের ভেতর কতটুকু কথা বলে? অভিজ্ঞতাবিহীন ভাবনা যেমন আছে তেমনি আবার অভিজ্ঞতালব্ধ ভাবনাও আছে। ভূমিষ্ঠ হবার পর থেকেই আমাদের অভিজ্ঞতা শুরু হয়। আবার ভাবনাও শুরু হয়। তবে সেগুলো কবে থেকে মনের উপর প্রভাব ফেলে, কবে থেকে একজনকে দুঃখী, বিষণœ, বা উৎফুল্ল, আনন্দিত করে তুলে তার কোন সূচনা বিন্দু বা রেখা নেই। বিষয়টা যদি আমরা কম্পিউটারের আলোকে দেখি তাহলে হয়ত তার একটা সহজ ধারণা পাব। কম্পিউটার এই সময়ে আমাদের সবার কাছেই একটা আবশ্যিক প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি। যেকোনো কাজেই এর ব্যবহার আছে। তাই আমাদের সবারই কোনো না কোনো একটি কম্পিউটার কেনার বাস্তব অভিজ্ঞতাও আছে। কেউ হয়ত অনেকগুলো কিনেছেন, কেউবা একটা। এখানে আমি টাটকা আনকোরা কম্পিউটারের কথা বলছি। অফিস আদালতে, লাইব্রেরি, কর্মস্থলে যেসব কম্পিউটার আছে সেগুলোর কথা বলছি না। একটা টাটকা আনকোরা কম্পিউটার যখন কিনে বাসায় নিয়ে আসি, তখন আমরা প্যাকেটটা খুলেই পাওয়ার অন করি।

তারপর প্রাথমিক কিছু সেট আপ ঠিক করে ব্যবহার শুরু করি। আগে এই প্রক্রিয়াটা একটু জটিল ছিল। শুধু অপারেটিং সিস্টেমটা থাকত, অথবা মেশিন পরিবেশ থাকত। সেখানে প্রথম অপারেটিং সিস্টেম ইনস্টল করে তারপর বিভিন্ন সফটওয়্যার ইনস্টল করতে হত। মূল কথা একটা বেসিক স্ট্রাকচার দেয়া থাকত তার মাঝে অপারেটিং সিস্টেম ও নানাবিধ সফটওয়্যার পরে আরো যোগ করে কম্পিউটার ব্যবহার শুরু করা হত। বর্তমান সময়ে এই প্রাথমিক কাজগুলো করাই থাকে। আমাদের কিছু করতে হয় না। শুধু পাওয়ার অন, লোকেশন (দেশের নাম), কম্পিউটারের নাম (যা নিজেকেই ঠিক করে নিতে হয়), ভাষা, লগ ইন ইউজার আইডি, পাসওয়ার্ড ইত্যাদি ইনপুট দিয়ে আমরা কম্পিউটার ব্যবহার শুরু করি। মানুষের ব্রেইনটাও একধরনের কম্পিউটার (এটা খুবই পুরাতন কথা, আমরা সবাই জানি ও বলি)। এর বেসিক স্ট্রাকচার ভ্রুণ অবস্থা থেকেই সংগঠিত হয়। কিন্তু এটা থাকে অনেকটা খালি বাড়ির মত। ভূমিষ্ঠ হবার আগে মাতৃজরায়ুতে এই জৈব কম্পিউটার কি করে তা আমাদের এখনো জানা হয়নি। ধরে নিতে পারি সে থাকে ঘুমন্ত। অবশ্য তার নির্মাণ যজ্ঞ চলতে থাকে।

নিজের অস্তিত্বের প্রয়োজনে যা যা দরকার তা সে করতে থাকে। ভূমিষ্ঠ হবার পর তার কাজে নতুন মাত্রা সংযোজিত হয়। পরিবেশ থেকে নানারকম সংকেত নেয়া হয়, তথ্য নেয়া হয়। সেগুলোর সে প্রসেসিং করে। বিভিন্ন সেক্টরে, ডিরেক্টরি, সাব ডিরেক্টরি, ফোল্ডার, ফাইল, ডকুমেন্ট এভাবে তথ্যগুলো সাজায়।

এই সাজানোর প্রক্রিয়াটা যত কুশলী ও পরিচ্ছন্ন, একজন মানুষ ততটাই গোছালো হন, ততটাই উজ্জ¦ল হন, ততটাই ধারালো হন। প্রশ্ন হলো বাহিরের পরিবেশ থেকে প্রাপ্ত তথ্যগুলো, যা মানুষ পাচ্ছে তার ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে, সেগুলোকে ব্রেইনের ভেতর কীভাবে সাজানো হয়। যদি ধরে নিই ব্রেইন একটা বাড়ি, তাহলে সে বাড়িতে বাহির থেকে নেয়া তথ্যগুলো হবে আসবাবপত্র অথবা আরো সহজে যদি অন্য উপমা দিয়ে বলি ব্রেইন একটা লাইব্রেরি, তাহলে তাতে বাহির থেকে নেয়া তথ্যগুলো হবে নানা রকম বইপত্র। একটা বাড়ি যদি সাজানো গোছানো থাকে, একটা লাইব্রেরিতে যদি সব বইপত্র ক্যাটালগিং এর মাধ্যমে সাজানো থাকে, তাহলে সেখানে সব কাজই আনন্দদায়ক হবে। 

তার বিপরীতে সবকিছু যদি অগোছালো থাকে, এখানে সেখানে বিশৃংখল অবস্থায় পড়ে থাকে তাহলে কিন্তু সেখানে কোনো ভালো কাজের পরিবেশ থাকবে না, এবং সব কাজই সেখানে হবে কষ্টকর। বাহিরের পরিপার্শ্বকে আমরা ছোটো আঙ্গিকে বলি পরিবেশ, বড় আঙ্গিকে বলি প্রকৃতি। ব্রেইনের ভেতরকার যে পরিবেশ, সেটাই হলো আমাদের মনের অন্য অর্থে প্রকৃতির যমজ। বাহিরের প্রকৃতি, যার মাঝে আমরা সবাই থাকছি, ভৌগোলিক কারণে সে প্রকৃতি ভিন্ন ভিন্ন রূপ নিচ্ছে, ভিন্ন ভিন্ন জায়গায়। এটাকে আমরা বলতে পারি ভৌগোলিক/সামষ্টিক ও স্থানিক অনন্যতা। এজন্য আমরা দেখি প্রকৃতিতে কোথাও পাহাড়, কোথাও অরণ্য, কোথাও বরফ, কোথাও মরু। কোথাও সে নাতিশীতোষ্ণ, কোথাও সে চরম ভাবাপন্ন। অন্যদিকে মনের সার্বজনীন যে নকশা সেখানেও আছে প্রকৃতির মতই ভৌগোলিক/সামষ্টিক ও ব্যক্তি অনন্যতা।

এভাবে দেখলে যে বিষয়টা স্পষ্ট হয় তাহলো আমাদের মন বাহিরের প্রকৃতিরই অন্তররূপ। এই দুইয়ের মাঝে যোগাযোগের যে মাধ্যম তাহল আমাদের ইন্দ্রিয়সমূহ। বলা হয় সাধকগণ বাহিরের প্রকৃতির সাথে মনের যোগাযোগ সাধন করেন। প্রকৃতির যে ঔদার্য্য, শান্ত, সৌম্যভাব তা দিয়ে মনকে সাজালে, সেই মনও হয় প্রকৃতির মত উদার, অনাবিল। সাগরে যেমন অল্প বাতাসে ঢেউ ওঠে না, প্রকৃতিতেও তেমনি ছোট ছোট ঘটনায় কোন পরিবর্তন চোখে পড়ে না। একইভাবে আমাদের মনও যদি প্রাত্যাহিক জীবনের ক্রিয়া বিক্রিয়ায় অবিচলিত থাকে, তাহলে জীবন তো অবশ্যই থাকবে ভোরের আলোর মতো নবীন, প্রাণোচ্ছল।

আমরা ভাবি, মানুষের মন রহস্যময়। মন হলো এমন একটা কিছু যা অনেক কিছু ঘটাতে পারে। বাংলা অভিধানে মন এর একটা অর্থ আছে। চিত্ত, অন্তর। আর ইংরেজি ভাষায় মনকে আমরা মাইন্ড হিসেবেই জানি। ইংরেজিতে এই মাইন্ডকে আর কিছুর সাথে মেশানো হয়নি। তার বিপরীতে বাংলা ভাষায় মন শব্দটি একশ একটা অর্থে ব্যবহƒত হয়েছে। মনে নেই, মনে মনে ভাবলাম, মনে মনে ঠিক করলাম, মনে পড়েছে, মন দিয়ে শোনা, মন হারিয়ে যাওয়া, মনের মাঝে, মন দেয়া নেয়া, এই ধরনের অনেক কথা হরহামেশা বলি।

এগুলোর একেকটার একটা প্রেক্ষিত এবং তারা এতো আলাদা আলাদা, দূরে দুরে থাকে যে, মন কি, সে সম্পর্কে কোনো ঘনায়ত একক ধারণা আমাদের আদতে নেই। কিন্তু একজন সাহিত্যকের উপলব্ধিতে প্রকৃতি ও মন একই রকম এবং তার লেখার উপজীব্য। প্রকৃতি ও মনের ক্রিয়া বিক্রিয়াতেই সৃষ্টি হয় সাহিত্যিকের বোধন। শব্দের তুলিতে জীবন চিত্র যিনি আঁকেন তার কাছে এই দুই সত্ত্বা নানাভাবে কথা বলে। প্রকৃতি বাহিরে, মন ভেতরে। প্রকৃতি তার অস্তিত্ব ঘোষণা করে, রোদ, ঝড়, বৃষ্টি, বিজলী, বজ্রপাত, ঠান্ডা, গরম, খরা বন্যা এসব দিয়ে, মন ও তেমনি হাসি কান্না, রাগ বিরাগ, বিষণœতা, উদাসীনতা, ক্ষোভ, ক্রোধ, চিৎকার, হুঙ্কার এই সব দিয়ে নিজের অবস্থানের জানান দেয়। এবং সব সাহিত্যকের লেখাতেই তাই আমরা দেখি এই যুগল ধারার সমান্তরাল চলন। প্রকৃতির যোগসূত্রে মনের ভৌগোলিক/সামষ্টিক মাত্রা থেকে সৃষ্টি হয় সংস্কৃতি, যা ক্রমে ক্রমে একটা জনগোষ্ঠির অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে রুপ নেয়। 

এই সংস্কৃতি বলে দেয় সেই জনগোষ্ঠীর সামষ্টিক মনের পরিচয়। বহমান জীবনের ঘাত প্রতিঘাতে এই সামষ্টিক মনের একটা ধ্রুব অন্তর্নিহিত কাঠামো তৈরি হয়। এই কাঠামো আবার আমাদের বলে দেয় সেই জনগোষ্ঠির সামষ্টিক মনের নানা দিক। বাঙালির সামষ্টিক মন বরাবরই নিরীহ, শান্তির আঁধার। তার অন্যদেশ দখলের উন্মাদনা নেই। যুদ্ধ জাহাজ বানিয়ে সাগর পাড়ি দেয়ার ইতিহাস নেই। মাছ, ভাত, দুধ চা, অতিথিপরায়ণতা, সরল জীবনের সরল হাসি, এবং গীতিময় দর্শন এই তার ধ্রুব অন্তর্নিহিত কাঠামো। এর বাইরে যা আছে তা ব্যক্তি-অনন্যতা। বাঙালি তার ব্যক্তি-অনন্যতায় সবচেয়ে বেশি উজ্জ¦ল এবং তা ফুটেছে সাহিত্যে। তার কারণ সম্ভবত বাংলাভাষা। এই ভাষায় অন্যান্য ভাষা থেকে প্রচুর শব্দ এসেছে। তাতে বাংলা ভাষা হয়েছে বিস্তৃত, বহুমুখী চিন্তা ও চেতনার বাহন। রাজনৈতিক ও সামরিক ব্যর্থতায় (১৯৭১ বাদ দিলে, ওই সময়ে আমরা জয়ী হয়েছি) বিজিত জনগোষ্ঠী হিসেবে, বাঙালিকে গ্রহণ করতে হয়েছে ভিন্ন সংস্কৃতির উপস্থিতি। বরাবরই বাঙালি নিজেকে খাপ খাইয়ে নিয়েছে।

বাঙালির সামষ্টিক মন প্রকৃতিকে নিয়েছে নিজের ভেতর। তাই আমরা দেখি গীতিময় দর্শনের এক অপার উপস্থিতি। লালন, রবি, নজরুল, বাঙালির সামষ্টিক মনের ব্যক্তি অনন্যতায় উজ্জ¦ল নক্ষত্র। তাদের মতই কোটি কোটি বাঙালির ভেতর এমন অনেক ব্যক্তি-অনন্যতার কুঁড়ি লুকিয়ে আছে। যেকোন সময় এই সব কুঁড়ি নিজেদের আত্মপ্রকাশ করে ফেলতে পারে। সেটা সময়ের ব্যাপার। 
বর্তমান ক্ষমতার রাজনীতি আদতে বাঙালির ভৌগোলিক/সামষ্টিক মনের পরিচয় বহন করে না। কারণ জাতি হিসেবে বাঙালি কখনই তস্কর/দুর্বৃত্তসুলভ ছিল না। সময়ের সাথে সাথে যন্ত্র সভ্যতায় বাহিরের প্রকৃতিতে যে দুষণ এসেছে, সে একই দুষণ বাঙালির সামষ্টিক মনেও এনেছে ক্লেশ ও বিকৃতি। এই বিকৃতি সাময়িক বলে ধরে নিতে হবে কারণ সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালি, ক্ষমতাচক্রের সদস্য নন। তারা মিশে আছেন মাটির মৌনতায়, প্রকৃতির সরলতায়। তাদের জীবনযুদ্ধের স্বরূপ পাল্টায়নি। তারা মূখ্যত এখনো কৃষিনির্ভর। অভিবাসী বাঙালির অর্থ যোগানে, শহর কেন্দ্রিক যে মধ্যবিত্ত সচ্ছলতার একটা কৃত্রিম আবরণ এখন এসেছে উন্নতির নামে, সে আবরণ স্থায়ী নয়। তবে এটাও ঠিক মানুষের কৃষিনির্ভরতা ক্রমেই কমে আসবে।

আসাটাই স্বাভাবিক। তখন বাঙালির সামষ্টিক মনের ধ্রুব অন্তর্নিহিত কাঠামোতেও পরিবর্তন আসবে। তবে তা হবে গভীর সমুদ্রের তলদেশে ঢেউ তোলার মতো। হয়তো আরেক হাজার বছরের। কি হবে তখন বাঙালির মনন? কঠিন প্রশ্ন বটে। আমাদের বর্তমান আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক বিভীষিকাগুলো আমাদের ভাবিয়ে তুলে। এভাবে কতদিন যাবে। হত্যা, গুম, খুন এই অপয়া অপরাধবৃত্তির কি কোন প্রতিকার নেই? এগুলোর নিরাময় খুবই সম্ভব যদি আমরা নিজেদের সামষ্টিক মনের ঘরে ফিরে যাই এবং সেখানে আমাদের আদি আত্মপরিচয় খুঁজি। অতিথিপরায়নতা, প্রকৃতির চির সবুজ মমতার সাথে নিজের মনের মেল-বন্ধন, সুখে দুঃখে সবাইকে এক সাথে নিয়ে চলার যে আমন্ত্রণ ও আনন্দ আহরণ, অন্যের দুঃখের ভাগ নেয়ার যে আগ্রহ, যদি আমরা এইসব মূল সূত্রে ফিরে যাই, তাহলে ক্ষমতার এই কুটিল রাজনীতি, দুর্নীতির এই বিষাক্ত ছোবল, হিংসা ঘৃণার এই উদ্বাহু নৃত্য, খুন, গুম এসবের বীভৎস স্পর্শ - এগুলো থেকে আমরা অবশ্যই মুক্ত হতে পারি।

বিষয়টি নিয়ে ভাবার অবকাশ ও প্রয়োজনীয়তা দুটোই আছে। অবকাশটা প্রসারিত হতে পারে যদি প্রয়োজনীয়তাটি আমরা ঠিকমত উপলব্ধি করি। এই উপলব্ধি প্রাশাসনিক/রাষ্টীয় প্রণোদনায় আসবে না। এটা আসবে মনের কারিগর সেই সব কবি, সাহিত্যিকদের লেখায়। গল্প, উপন্যাস, কবিতায় শুধু বাণিজ্যিক কাটতির আশায় চমক সৃষ্টি করলেই চলবে না, জনপ্রিয়তার পেছনে ছুটতে যেয়ে সমাজ জীবনের প্রতি যে দায়বদ্ধতা সেটিও ভুলে গেলে চলবে না। সামষ্টিক মনের ধ্রুব অন্তর্নিহিত কাঠামোর মেরামতিটা সরকার, রাজনীতি, আইন আদালত দিয়ে হবে না, কখনো হয়নি। ইতিহাস বলে সক্রেটিস প্রাণ দিয়েছিলেন শাসককূলের বিপরীতে সত্য কথা বলে। সুতরাং ঋদ্ধ নাবিকের শক্ত হাতে ঠিক মতো হালটি ধরবেন সাহিত্যিকগণ সব রকম ভয় ভীতির ঊর্ধ্বে ওঠে।

সেটাই সহজাত। আমরা আশা করবো প্রতিটি কবিতায়, প্রতিটি গল্পে, প্রতিটি উপন্যাসে একটি সুন্দর, শাশ্বত উপপাদ্য থাকবে এবং আবেদন থাকবে আপামর মানুষের প্রতি - তারা যেন ভুল পথটা ছেড়ে শুদ্ধ পথে ফিরে আসেন। বুঝতে হবে একটা চোর, ডাকাত, খুনী, ধর্ষক  সে জন্ম থেকেই ওরকম ছিল না। সেও বড় হয়েছে তার পিতা মাতার স্বপ্নের আবহে। সেও কখনো গল্প, উপন্যাস, কবিতার পাঠক ছিল, এবং সামনেও হতে পারে। তাই সাহিত্যিকের মনকে ছড়িয়ে দিতে হবে সবার মাঝে। কে জানে কবিতার একটি লাইন, গল্পের একটি কথা, উপন্যাসের একটি চরিত্র একজন অপরাধীকেও করে দিতে আবার একজন শুদ্ধ মানুষ। 

menu
menu