উপন্যাস : জাহান ও পিতার মুখ

“জাহান যেই বাস থেকে নামতে যায়, অমনি বাসের সিঁড়িতে পড়ে যায়।
হাতে, মাথায় ব্যথা পায়, কিছু সময় পর টের পায় বা পায়ের গোড়ালি ফুলে উঠেছে। আচমকা এমন একটা ঘটনা ঘটবে, জাহান কি ভেবেছে? বাসের সবাই ধরাধরি করে ওকে সিটে বসিয়ে দেয়। ওর ব্যাগের মধ্যে বোতলে পানি ছিল, কেউ একজন পায়ের গোড়ালিতে পানি ঢালতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।
জাহান ভাবে, বরফ দিতে পারলে ভালো হতো কিন্তু এখানে বরফ কোথায় পাবে? 
পরিস্থিতি আজ করতে পেরে তথাকথিত বাস মালিক কোথাও সটকে পড়ে, তাকে আর দেখা যায় না। 
বাস চলতে শুরু করলে জাহানের কাছে পায়ের ব্যথা একটু কম মনে হয়।  
জাহান নিজেকে নিজে প্রশ্ন করে, আজ এতগুলো অঘটন কেন ঘটছে? এটা জাহানের জন্য তৃতীয় অঘটন।
মন ভালো করার জন্য জাহান বাবাকে ফোন দেয়। ও পাশ থেকে বাবা ফোন ধরলে, জাহান কেঁদে ফেলে। কোনো কথা বলতে পারে না। 
জাহানের কান্না শুনে রইসউদ্দীনের অবস্থা হয় ইলেকট্রিকের সট খাওয়ার মতো। 
ঘণ্টাখানেক আগে মেয়ের ফোন পেয়েছে রইসউদ্দীন। তখন কত হাসিখুশি দেখেছে মেয়েকে। নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে নতুন জায়গায় যাচ্ছে। ফোনের এ পাশ থেকেই মেয়ের চোখেমুখে আনন্দের ঝিলিক দেখেছিল। এই এক ঘণ্টার মধ্যে কী এমন ঘটল? কী হয়েছে বল, কী হয়েছে কাঁদছিস ক্যান? 
বাবার এ কথার কোনো উত্তর দিতে পারে না জাহান। তখনো ও কেঁদে চলেছে।
এবার সত্যি সত্যি রইসউদ্দীন সামনে ভয়াবহ অন্ধকার দেখতে পায়। এখন কী করা উচিত বুঝতে পারে না। কাঁপা কাঁপা হাতে ফোনটা রাবেয়ার হাতে দিয়ে বলে, তোমার মেয়ে কাঁদছে। কি হয়েছে কিছুই বলছে না। দেখো তোমাকে বলে কিনা। 
স্বামীর মুখে এ কথা শুনে রাবেয়া বিছানা থেকে কোনো রকম ওঠে, হাউমাউ করে ওঠে। কথা বলবে কী? হাত কাঁপতে কাঁপতে মোবাইল হাত থেকে পড়ে যায়। পড়ে মোবাইল দুভাগ। মেয়ের সাথে কথা হয় না।  বাবা-মা দুজনে ধপাস করে সোফায় বসে পড়ে।
জাহান ফোন কানে চেপে ছিল, কিছু সময় পরও ওপাশ থেকে কোনো আওয়াজ না পেয়ে ভাবে, বাবার কি কিছু হলো?
বাবা কী মেঝেতে পড়ে গেল? 
ভাবতেই জাহানের কান্না থেমে যায়। হাজারটা চিন্তা ওর মাথায় প্রোটোজোয়ার মতো কিলবিল করতে থাকে। এখন উপায়?” 


কাহিনী সংক্ষেপ :
জাহানের অনেক দিনের ইচ্ছে তার স্বপ্নের মানুষকে নিয়ে একটা গবেষণামূলক কাজ করবে, যে তার কাছে শুধু বঙ্গবন্ধু নয়, সে  পিতা। এ সুযোগ চলে আসে যখন জাহানের বিসিএস শিক্ষাক্যাডারে চাকরি হয় এবং পোস্টিং হয় গোপালগঞ্জের একটি সরকারি কলেজে। জাহান প্রিন্সিপাল স্যারের সহযোগিতায় গবেষণার কাজ শুরু করে।  
আকিব জাহানের সহকর্মী একই সাথে ওরও এ কলেজে চাকরি হয়েছে। আকিবের বাবা মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন, মুক্তিযোদ্ধা কোঠায় ওর চাকরি হয়েছে কিন্তু জাহানের এ গবেষণা কাজ আকিব পছন্দ করে না। 
জাহান যেদিন তার কাজ প্রায় শেষ করে এনেছে, সেরাতে জাহান খুন হয়, ওর লাশ মধুমতি নদীর পাড়ে বালুর মাঠে পড়ে থাকতে দেখা যায়। এভাবেই শেষ হয় ‘জাহান ও পিতার মুখ’ উপন্যাস।



সৈয়দ নূরুল আলম, কবি, কথাসাহিত্যিক। গোপালগঞ্জ।  

menu
menu